ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেছেন, তিনি সকলকে নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যেতে চান। তিনি বলেন, আমার শুধু একটিই স্বার্থ – ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণ সাধন। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী দিনে শিক্ষা ও গবেষণায় অগ্রসর করা। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মডেল অনুসরণ করে সবাইকে নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
৪৬তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে টিএসসিসি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৪৬তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোঃ আলীনূর রহমানের সভাপতিত্বে আজ সোমবার দুপুর ১২টায় আলোচনা সভা শুরু হয়।
বক্তব্যের শুরুতে ভাইস চ্যান্সেলর সকলকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিভিন্নভাবে যারা সহযোগিতা করেছেন তাঁদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং জুলাই বিপ্লবে শহীদ সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সংস্কারকে তিনি প্রাধান্য দিতে চান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামী শিক্ষা এবং আধুনিক শিক্ষার সংমিশ্রণ ঘটানোর জন্য আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উল্লেখ করে ইসলামী এবং আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষক-ছাত্র সবার সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি ।
অনুষ্ঠানে ডিন কাউন্সিলের সভাপতি থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আ.ব.ম. ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, বিভাগীয় সভাপতিদের পক্ষ থেকে আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. নাছির উদ্দিন মিঝি, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ, এস্টেট প্রধান মোহাঃ আলাউদ্দিন এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম সুইট বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের উপর ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রফেসর ড. মোঃ জাকির হোসেন এবং প্রফেসর ড. মোঃ কামরুল হাসান।
আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে সকল শহীদ এবং গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে সকল শহীদ এবং গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
আজ সোমবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ৪৬তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোঃ আলীনূর রহমান। ডিনগণ এসময় তাঁদের সাথে ছিলেন। একই সময়ে হলসমূহে জাতীয় পতাকা ও হল পতাকা উত্তোলন করেন স্ব-স্ব হলের প্রভোস্ট ও হাউজ-টিউটরগণ।
পতাকা উত্তোলন শেষে ভাইস চ্যান্সেলর শান্তির প্রতীক পায়রা ও আনন্দের প্রতীক বেলুন উড়িয়ে ৪৬তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই সময়ে উদযাপন কমিটির আহŸায়ক, ডিন ও সভাপতিবৃন্দ পায়রা ও বেলুন উড়ান। এসময় সকল পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থীসহ ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচি উদ্বোধনের পর ভাইস চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ডিনদেরকে নিয়ে ৪৬তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের কেক কাটেন।
এরপর ভাইস চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে এক বিশাল বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বাদ্যের বাজনার সঙ্গে-সঙ্গে র্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ভিত্তিপ্রস্তর চত্বরে এসে শেষ হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক এবং ডিনবৃন্দ এ সময় তাঁর সাথে ছিল। পওে ইবি জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এরপর ভাইস চ্যান্সেলর বিভাগসমূহ আয়োজিত শিক্ষা ও গবেষণা প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক, ডিন, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা এবং বিভাগীয় সভাপতিগণ।
৪৬তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে মেইন গেট, প্রশাসন ভবন, ভিসি বাংলো, ভিত্তিপ্রস্তর ও ডায়না চত্বর ২৪, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর (৩ দিন) আলোকসজ্জিত করা হয়েছে। সড়কে জুলাই-আগস্ট‘২০২৪-এর চেতনা ধারণ করে আলপনা অঙ্কন ও রঙিন পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে।
৪৬তম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে মেইন গেট, প্রশাসন ভবন, ভিসি বাংলো, ভিত্তিপ্রস্তর ও ডায়না চত্বর ২৪, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর (৩ দিন) আলোকসজ্জিত করা হয়েছে। সড়কে জুলাই-আগস্ট‘২০২৪-এর চেতনা ধারণ করে আলপনা অঙ্কন ও রঙিন পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আতশবাজি উৎসব হয়। ভাইস চ্যান্সেলর সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা আতশবাজি উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। #সংবাদ বিজ্ঞপ্ত