ইবির পরিবহন পুল সংস্কারের দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের মানববন্ধন

আজকের খবর ইবি
ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিবহন পুল সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনটি ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলমের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মাহমুদুল হাসান। এছাড়া সহ-সভাপতি ওবাইদুর রহমান আনাস, উদয় দেবনাথ ও সাদিয়া মাহমুদ মিম, সহ-সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন, শেখ সুমন, দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মাজিদুল ইসলাম উজ্জ্বল, ক্রীড়া সম্পাদক তানিম তানভীরসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি উদয় দেবনাথ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন খাতে দক্ষ চালকের অভাব এবং ফিটনেসবিহীন বাসের অভাব রয়েছে। এসব বাস একটু টুকা লাগলেই উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আমরা চাই— ফিটনেসবিহীন পরিবহন বাদ দিয়ে নতুন বাস সংযোজন করা হোক, দক্ষ চালক নিয়োগ দেওয়া হোক এবং বাসগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা করা হোক। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও সচেতন হতে হবে।”
সহ-সভাপতি সাদিয়া মাহমুদ মিম বলেন, “বর্তমানে যিনি পরিবহন পুলের দায়িত্বে আছেন, তিনি একই সঙ্গে উপ-উপাচার্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন। একজন ব্যক্তি যদি দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারেন, তবে তার একটিকে বেছে নেওয়া উচিত। আমরা চাই— তিনি একটি দায়িত্ব নিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করুন।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবহন সমস্যাগুলো নতুন কিছু নয়। দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর ধরে এ সমস্যা নিয়ে কথা বললেও প্রশাসন বরাবরই উদাসীন। প্রশাসন বলে— কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু বড় দুর্ঘটনার আগেই ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। আমরা চাই— আর কোনো শিক্ষার্থী যেন পরিবহন ভোগান্তির শিকার না হয় এবং কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম বলেন, “প্রশাসনকে অনুরোধ জানাচ্ছি— বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তা দ্রুত সংস্কার করুন, যাতে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে না হয়।”
সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, “গতকাল আমরা দেখেছি— একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে। বিভিন্ন সূত্রে জেনেছি, চালক টানা দুই-তিন দিন বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানোর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চালাচ্ছিলেন— যা দুর্ঘটনার কারণ। আমরা প্রশাসনকে প্রশ্ন করতে চাই— আপনারাও কি বাস চালকের মতো ঘুমিয়ে থাকবেন, নাকি সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন? আমরা আর কোনো দুর্ঘটনা দেখতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগেও বাসের সিট নিয়ে দুই বিভাগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাসে একটি সিট নিশ্চিত করা না গেলে, সিটের জন্য তাদের যদি যুদ্ধ করতে হয়— এটি অত্যন্ত হাস্যকর। এছাড়া দুই-তিন দিন পরপর কুষ্টিয়ার নিশানমোড়সহ নির্দিষ্ট রুটের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়, যা একরকম ভোগান্তি। ভালো বাসগুলো শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ থাকে আর শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় ফিটনেসবিহীন বাস। শিক্ষার্থীরা কি মানুষ নয়? কেন তাদের ঝুঁকিপূর্ণ বাসে চড়তে হবে?”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মনে করিয়ে দিতে চাই— আপনারা শত শত শহীদ শিক্ষার্থীর রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। তালবাহানা বন্ধ করুন। পরিবহন পুলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবেন না। আমরা চাই— দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা সংস্কার করা হোক এবং সব শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও সহজলভ্য পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা হোক।”
শেয়ার করুন