ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শিক্ষার্থীদের আয়োজনে পবিত্র মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ সাব্বিরের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির ও জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার ইবি শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান। এছাড়াও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাফেজ মুহাম্মদ আবু মুসা আবু মুসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি মাহমুদুল হাসান, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ ইসমাইল হোসেন রাহাত, জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন প্রমুখ।
আল কুরআন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন বলেন, “মাহে রমজান উপলক্ষে আমরা যে বর্ণাঢ্য র্যালি করেছি, এটি শুধুমাত্র আমাদের আনুষ্ঠানিকতার পরিচয় নয়। এই র্যালির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহকে জানিয়ে দিতে চাই— এটি আমাদের ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মাহে রমজান ও ইসলামী সংস্কৃতি লালন করে ধারণ করে—এদেশের প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমের কাছে ইসলামী সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা ভূমিকা রাখব। আমরা চাই— রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করে সিয়াম পালন করব এবং এর পবিত্রতা বজায় রাখব। আমরা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাই— রমজান মাসে যেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দোকানগুলো দিনের বেলায় বন্ধ থাকে। রমজানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অশ্লীলতা বা বেহায়াপনা চলতে দেওয়া যাবে না। যদি এমন কিছু ঘটে— তবে ছাত্রসমাজ তা প্রতিহত করবে। রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমাদের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”
আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, “রমজান মাস আমাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার মাস, শক্তি সঞ্চারের মাস। এমাস আমাদের পুরো মুসলিম উম্মাহকে একত্রিত করে। আমরা জানি— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর খাবারের মান ততটা উন্নত নয়। প্রশাসনকে খাবারের মানোন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে। এছাড়া উন্নত মানের খাবারের জন্য আলাদা বরাদ্দ দিতে হবে। অন্য ধর্মাবলম্বী ভাইদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা চলতে দেওয়া যাবে না। আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পাদক হাফেজ মুহাম্মদ আবু মুসা বলেন, “রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য সিয়াম ও সাধনার মাস। এটি পবিত্রতা অর্জনের মাস। রমজানকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে— যারা দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেয়। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা— যেকোনো মূল্যে এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে একমাত্র ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এর লক্ষ্য ছিল কুরআনের শিক্ষা প্রচার করা। এ বিশ্ববিদ্যালয় সারা বাংলাদেশে ইসলামের প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্রতিষ্ঠান। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই— রমজান হোক বা অন্য সময়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা চলতে দেওয়া যাবে না, তা বন্ধ করতে হবে। এটি কুরআন নাজিলের মাস, পাশাপাশি এটি বদরের মাস। কুরআন নাজিলের মাসে আমাদের শপথ নিতে হবে যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুরআনের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবে।”
ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, “রমজান শুধুমাত্র উপবাসের মাস নয়, এটি তাকওয়া অর্জনের মাস। আল্লাহভীতি যেন আমাদের অন্তরে প্রতিষ্ঠিত হয়। রমজান আমাদের যে শিক্ষা দেয়, সেই শিক্ষাকে ধারণ করেই আমরা পুরো বছরটি যেন কাটাতে পারি।
তিনি বলেন, “আল্লাহ শয়তানকে শিকলবন্দি করেছেন কিন্তু মানুষের অন্তরে যে শয়তানের প্রভাব কাজ করে— তা নিয়ন্ত্রণ করে আল্লাহর জন্য নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে। আমরা চাই, মুসলিমদের জন্য উন্নত মানের খাদ্যের ব্যবস্থা করা হোক। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল সেটিকে বাস্তবায়নের জন্য আমরা রমজানকে কেন্দ্র করে সচেষ্ট থাকব।শয়তান দুই ধরনের—একটি মানুষের মধ্যে আরেকটি জিনদের মধ্যে। মানুষের মধ্যে যে শয়তান, তাদের দমন করার জন্য সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে— তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। ডেভিল হান্টের আয়ত্তে যাদের এখনো দমন করা হয়নি, তাদের রমজানের মাধ্যেই এই ডেভিল হান্ট করা হোক। এতে দেশ শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।”
আল হাদীস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও র্যালি উদযাপন এবং জমিয়তে তলাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, “রমজান শুধুমাত্র উপবাসের মাস নয়, এটি মুত্তাকি হওয়ার মাস। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলতে চায়— ক্যাম্পাসে যে অনৈতিক কার্যক্রম চলে, তা যেন শুধু এই মাসেই না বরং পরবর্তী পুরো বছর যেন আমরা এগুলো থেকে বিরত থাকতে পারি। আমরা রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখতে হবে।”