ইবি সংবাদদাতা:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিগত ১৫ বছরের সকল দুর্নীতি ও অনিয়মের শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর কাছে এ দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করে সংগঠনটি।
এসময় সংগঠনটির আহ্বায়ক এস এম সুইট, মুখ্য সংগঠক গোলাম রব্বানী, সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব মোবাশ্বির আমিনসহ সংগঠনের অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত দুর্নীতি ও অনিয়মসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত সকল ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ সংক্রান্ত দাবিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাতির বিবেক ও নৈতিক নেতৃত্বের কেন্দ্র। অথচ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক লেনদেন ও অবকাঠামোগত কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব অভিযোগের স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্পত্তির একমাত্র পথ হলো একটি পূর্ণাঙ্গ, তথ্যভিত্তিক ও জনসম্মুখে প্রকাশযোগ্য শ্বেতপত্র।
এ প্রেক্ষিতে ইবিতে সংঘটিত পূর্বের সকল ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তারিত তথ্যসম্বলিত শ্বেতপত্র আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করার দাবি জানান তারা। অন্যথায় শিক্ষার্থী সমাজ শান্তিপূর্ণ কিন্তু কঠোর কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় সংগঠনটি। এছাড়া পরিস্থিতির দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অনিয়ম-দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকদের বহন করতে হবে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
জানা যায়, গত বছরের ১৬ মার্চ বিগত ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনামলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের দুর্নীতি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে উপাচার্যের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও তা এখনো দিতে পারে নি তারা।

