ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যায় শোক ও প্রতিবাদে মৌন মিছিল

আজকের খবর ইবি
ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যায় শোক ও প্রতিবাদে মৌন মিছিল করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এসময় রুনা হত্যাকন্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তিসহ  সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মৌন মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলা বিভাগের প্রফেসর গাজী মাহবুব মুর্শিদ, প্রফেসর ড. মোঃ মনজুর রহমান, অধ্যাপক ড. রোজী আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. তিয়াশা চাকমা, আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মোজাহিদুর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. গফুর গাজী, সহকারী অধ্যাপক মৌমিতা আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল,  পরিবেশ বিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইনজামুল হক সজল ও অন্য শিক্ষকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।
এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে, ” সাজিদ হত্যার বিচার চাই”, “আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার চাই”, “বিচারহীনতার চর্চা বন্ধ করো”, “নিরপেক্ষ তদন্ত চাই প্রভাব মুক্ত বিচার চাই”সহ নানা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
প্রফেসর ড. মোজাহিদুর রহমান বলেন, আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তার সততা,  নৈতিকতা এবং তার দায়িত্ববোধের সাথে অন্যায়ের কনফ্লিক্টের কারণেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। একজন বিভাগের সভাপতি আসেন নামকাওয়াস্তে হিসাব দিয়ে চলে যান, একজন প্রভোস্ট আসেন আবার নামকাওয়াস্তে হিসাব দিয়ে চলে যান। তিনি যখন এই জায়গাটা স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতায় আনতে চাইলেন তখনি তাকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হলো। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
প্রফেসর মাহবুব মোর্শেদ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়ানোর জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না, তবে অন্যায়ের প্রতিবাদে সামনে আসতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আরও শক্ত ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ প্রত্যাশা করা হয়েছিল। এই প্রতিবাদ কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি ন্যায়বিচারের দাবি।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় পরদিন ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের পরিবার। পরদিন আসামী ফজলুর রহমানকে চিকিৎসাধীন গ্রেফতার দেখায় ইবি থানা পুলিশ। বর্তমানে আসানি ফজলু কারাগারে আছেন। অন্য আসামিরা হলেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। ঘটনার মাস পেরোলওে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে হত্যা মামলার
তিন আসামি ।
শেয়ার করুন