ইবি সংবাদদাতা:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ভিসি প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেছেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সংকটগুলো আমি জানি। এসব সমস্যা সমাধানে আমি আশ্বাসের বাণী দিয়ে কোনো আশ্বাস দিব না, তবে চেষ্টা করবো তা কাজের মাধমে প্রমাণ করার। শনিবার (১৬ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপাচার্যের অফিস কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চব্বিশের অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে ভিসি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের স্মৃতিসৌধ রয়েছে। ১৯৫২ সালে যারা ভাষা আন্দোলন করেছেন, তাদের স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি যিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাঁরও ভিত্তিপ্রস্তর এখানে রয়েছে। যেদিন এই পূর্ব বাংলা, আজকের বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে, তার জন্যও স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় জুলাই শহীদদের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন ফটকের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সেটি খুব শীঘ্রই কার্যকর হতে যাচ্ছে।
বিগত প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির পরিবর্তন বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির বিষয়ে আমি শুনেছি। তবে অফিশিয়াললি এখনো এড্রেস করিনি। যদি প্রয়োজন হয় পরিবর্তন করা হবে, যদি প্রয়োজন হয় সংযোজন করা হবে। এটিকে ইফেক্টিভ করার জন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া জুলাইবিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে যেহেতু দুটি বিষয়ে (শিক্ষক-কর্মকর্তা) অলরেডি অ্যাড্রেস করা হয়েছে, তো সংগত কারণে শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে। যেহেতু শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা এখনই চূড়ান্ত কোনো কথা আমি বলছি না। কিন্তু এটি নিশ্চয়ই আমাদের অনেকগুলো বডি আছে, তাদের সাথে আলোচনা করে, পরামর্শ করে আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে একটা সন্তোষজনক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।
ভিসি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিশেষ করে ভাইস চ্যান্সেলর কেন্দ্রিক একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়। এটি অমূলক কিছু নয়। এটি ভাইস চ্যান্সেলর কারও না কারও সাথে তো পরামর্শ করতেই পারে। সিন্ডিকেট শব্দকে কেউ ইতিবাচকভাবে নেয় না। যদিও সিন্ডিকেট তো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একটা বডি। নিশ্চয়ই আমি কোনো না কোনো সিন্ডিকেটের ভেতরে থাকবো। আমার সিন্ডিকেট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন। আমাকে কেউ ভুল বুঝিয়ে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত কোনো স্বার্থ চরিতার্থ করা সম্ভব নয়।
উপাচার্য হিসেবে শুভেচ্ছা ও অভিবাদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ফুল নিয়ে আমি আসলে গর্ব করতে চাই না। আল্লাহ যদি আমাকে কখনো সুযোগ দেয়, আমি বিদায় বেলায়, যদি আল্লাহ ওই পর্যন্ত আমাকে হায়াত রাখে, আমি যদি সুস্থ থাকি, দায়িত্ব পালন করতে পারি, বিদায় বেলায় যদি কেউ আমাকে ফুল দেয় সেই ফুলটা গ্রহণ করবো।
সভায় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে তোমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সম্ভব। নিজের ঘরের সমস্যাটা আমরা নিজেরাই সমাধান যদি করতে পারি, তাহলে মনে হয় সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির জন্য অনেক বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি প্রফেসর ড. এয়াকুব আলী, ট্রেজারার প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাব ও রিপোটার্স ইউনিটির সাংবাদিকবৃন্দ।

