ইবি সংবাদদাতা:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রদলের তিন মাস মেয়াদী আহ্বায়ক কমিটির বয়স এখন চার বছর ১১ মাস। সম্প্রতি বিভিন্ন শাখায় নতুন কমিটি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটি হতে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এদিকে বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে সংগঠন পরিচালনায় অছাত্র, নিষ্ক্রিয় ও চাকরিজীবী সদস্যদের সম্পৃক্ততা নিয়ে ওঠা নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে নতুন কমিটিতে
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র ও তরুণ নেতৃত্ব দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ জুন লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০০৭-০৮ বর্ষের সাহেদ আহম্মেদকে আহ্বায়ক ও ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ বর্ষের মাসুদ রুমী মিথুনকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ঘোষণার সময় কমিটির মেয়াদ ধরা হয়েছিল তিন মাস। তবে প্রায় ৫ বছর চলা আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ সদস্যই দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয়। অনেকে বিবাহিত ও চাকরিজীবী। কেউ কেউ বিদেশেও অবস্থান করছেন। ইবি ছাত্রদলকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে নতুন কমিটির তরুণ নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছেন নেতাকর্মীরা।
এদিকে নতুন কমিটির নেতৃত্বে নিয়মিত ও তরুণদের মধ্যে এগিয়ে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী ও বর্তমান কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদ, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী ও বর্তমান কমিটির সদস্য নূর উদ্দিন ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম স্বাক্ষর।
এছাড়া তরুণদের মধ্যে কমিটিতে থাকার গুঞ্জন রয়েছে- হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আলামিন হোসেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের আরিফুল ইসলাম জনি ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের রিফাত হোসেন প্রমূখ।
আল ফিকহ বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশ ছাত্রসমাজ সুশৃঙ্খল ও শিক্ষার্থী বান্ধব রাজনৈতিক নেতৃত্ব চায়। সেক্ষেত্রে নিয়মিত ও তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের কন্ঠ হিসেবে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নতুন কমিটি হোক তারুণ্যের ভাবনায় প্রস্ফুটিত নিয়মিত ছাত্র নেতাদের নেতৃত্ব।
ফোকলোর এন্ড সোশ্যাল স্টাডিজ বিভাগের
জিন্নাত মালিয়াত সীমা বলেন, ইবি ছাত্রদলে নিয়মিত, দায়িত্বশীল ও তরুণ নেতৃত্বের খুব প্রয়োজন। যারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখবে, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেবে এবং ক্যাম্পাসের ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করবে। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব সংগঠনে গতিশীলতা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে।
লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী নুদরাত নাওয়ার প্রাপ্তি বলেন, ইবি ছাত্রদলে তরুণ, উদ্যমী ও নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতৃত্বের প্রত্যাশা করছি। নতুন নেতৃত্ব সংগঠনে সৃজনশীল, আধুনিক ও সময়োপযোগী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ এনে দলকে আরও সুসংগঠিত করবে।
শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাকিব হাসান স্বাক্ষর বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে যে আলোচনা চলছে তা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করছে। আমি মনে করি নতুন কমিটি হবে তারুণ্য নির্ভর, শিক্ষার্থীবান্ধব, জবাবদিহিমূলক এবং ক্লিন ইমেজের অধিকারী বিগত দিনে যারা রাজপথে ছিল, সংগ্রাম করেছে এবং যাদের সাংগঠনিক দক্ষতা থাকবে। কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য আশা করি দ্রত কেন্দ্রীয় কমিটি নতুন কমিটি উপহার দিবে তাতে সংগঠন আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে।
শাখা ছাত্রদলের সদস্য নূর উদ্দিন বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিয়মিত শিক্ষার্থীরা কমিটি নিয়ে আগ্রহী, উৎসাহী এবং নিজেদের যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়ে আশাবাদী। আগামীতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তারা শিক্ষার্থীবান্ধব, দায়িত্বশীল ও গণমুখী ভূমিকা পালন করবেন। আমরা বিশ্বাস করি, রানিং স্টুডেন্টদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে ছাত্রদল তার হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করবে।
শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাফিজ আহমেদ বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দিয়ে কমিটি গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটির মাধ্যমে তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে। আমরা এমন একটি নেতৃত্ব প্রত্যাশা করি, যা হবে গতিশীল, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং সাংগঠনিকভাবে কার্যকর। নতুন নেতৃত্ব হবে শিক্ষার্থীবান্ধব, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক। যে কমিটি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সর্বদা সক্রিয় ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ইতিবাচক ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
ইবি দায়িত্বে থাকা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জহির রায়হান আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে
কমিটির দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার দায়িত্ব শেষ করেছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দুইটা খসড়া প্রদান করেছি। বাকিটা তাদের কাজ।

