ইবি সংবাদদাতা:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রিন্টের কাগজ সংকটে ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। ফলে চাকরি ও বিদেশ গমনসহ জরুরি প্রয়োজনে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। তবে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক সময়ের জন্য অল্পসংখ্যক কাগজ ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা যায়, গত বছরের নভেম্বরে ট্রান্সক্রিপ্ট প্রিন্টের প্রয়োজনীয় কাগজ ক্রয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নোট দিয়েছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। পরে কাগজ যাচাই বাছাইয়ের জন্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. আলীনূর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। তবে কমিটি যাচাই বাছাইয়ের প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব করায় প্রিন্টের কাগজ ক্রয়ের অনুমোদন পায়নি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। এদিকে ট্রান্সক্রিপ্টের কাগজ শেষ হওয়ার শঙ্কায় চলতি বছরের শুরু থেকে প্রিন্ট সীমিত করে সংশ্লিষ্ট দফতরটি। গতকাল থেকে জরুরি প্রয়োজনে প্রদান করার মতো কাগজও শেষ হয়ে যায়। এতে চাকরি ও বিদেশ গমনসহ জরুরি প্রয়োজনে ট্রান্সক্রিপ্ট নিতে আসা শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম সীমান্ত বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ট্রান্সক্রিপ্টের জন্য দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছি। রেজাল্ট রেডি, কিন্তু অদ্ভুত অজুহাত কাগজ নেই। একেকজন একেক জায়গায় পাঠাচ্ছেন, কিন্তু কাজ কিছুই হচ্ছে না। ডেলিভারি ডেটের তিনদিন পরেও এন্ট্রি খাতায়ই তোলা হয়নি নাম। ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে একটা বিশ্ববিদ্যালয় সামান্য প্রিন্টিং পেপারের অভাবে শিক্ষার্থীদের দিনের পর দিন হয়রানি করবে, এটা ভাবতেও লজ্জা লাগে। আমাদের সময়ের কি কোনো মূল্য নেই? নাকি শিক্ষার্থীরা কেবল দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে বেড়ানোর জন্যই ভর্তি হয়েছে?
আইন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি রিমন বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সনদ ও নম্বরপত্র উত্তোলন এক আতঙ্কের নাম। পরিশোধিত ফি এন্ট্রি না হওয়া, কারিগরি ও সফটওয়্যার জনিত জটিলতা,তথ্যগত ভুল যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতার দোহাই দিয়ে কেনা হচ্ছে না ট্রান্সক্রিপ্ট প্রিন্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ। প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্য শিক্ষার্থীদের হারাতে হচ্ছে জীবনের মূল্যবান সময় ও চাকরির সুযোগ। এর শেষ কোথায়?
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. ওয়ালিউর রহমান বলেন, কাগজ শেষ হওয়ার শঙ্কায় গত বছরের নভেম্বরে প্রশাসন বরাবর নোট প্রেরণ করি। কিন্তু পাঁচ মাস পেরোলেও কাগজ কেনার অনুমোদন পাইনি। যার ফলে ট্রান্সক্রিপ্ট প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করি আগামী সপ্তাহে প্রয়োজনীয় কাগজ পাবো।
ট্রেজারার প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ট্রান্সক্রিপ্ট পেপার শেষ হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ কাগজ কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সকল কাগজ পাবো।

