ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ৬০জন বৃত্তিপ্রাপ্ত মোরাল চাইল্ড নিয়ে বৃত্তি উৎসব আয়োজন করেছে ‘মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট ইউনিট’। রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে ইংরেজি বিভাগের ২০৫ নম্বর কক্ষে এ বৃত্তি উৎসব হয়। এসময় ‘নৈতিক সমাজ নিয়ে তরুণদের ভাবনা’ শীর্ষক উপস্থিত বক্তব্য প্রতিযোগিতা ও খাবারের আয়োজন করে সংগঠনটি। এতে প্রতিযোগিতায় ৪০ জন মোরাল চাইল্ড অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে ‘মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার’ ইবি ইউনিটের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মিশুক শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসবে ছিলেন সংগঠনের ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান ও ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার অধীকারী।
মোরাল চাইল্ড অন্তরা খাতুন বলেন “আমরা অনেক সময় মনে করি, সমাজ পরিবর্তন করতে হলে বড় কিছু করতে হবে। কিন্তু আমি মনে করি, সমাজ পরিবর্তন শুরু হয় একজন মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে, একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে। আমার একটি স্বপ্নের নৈতিক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে একজন মানুষ শুধু নিজের কথা ভাববে না, কেউ বিপদে পড়লে তার পাশে দাঁড়াবে। অন্যায় দেখলে নীরব থাকব না। কাউকে তার অর্থনৈতিক অবস্থা দিয়ে বিচার করবে না। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—আমরা ভালো কাজ করব শুধু আইন বা শাস্তির ভয়ে নয়, নিজের বিবেক ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে।”
সংগঠনের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মিশুক শাহরিয়ার বলেন, “মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার একটি নৈতিক সমাজ গঠনের স্বপ্নে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের এই সংগঠন ছাত্র-ছাত্রীদের শুধু বৃত্তি প্রদান করে না– এর পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন আত্ম উন্নয়নমূলক কোর্স (ভাষা শিক্ষা, কম্পিউটার শিক্ষা ) ও সমাজ থেকে দারিদ্র্যতা দূরীকরণে কাজ করে “স্বাবলম্বী প্রজেক্ট এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে এককালীন অর্থ দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. প্রদীপ কুমার অধিকারী বলেন, “একজন মানুষকে সাহায্য করলে হয়তো একটি জীবন বদলায়, কিন্তু একজন মানুষকে নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে বদলে যেতে পারে একটি সমাজ।
মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার একটি নৈতিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। নৈতিকতা কোন নির্দিষ্ট ধর্মের বিষয় নয়, মানুষ হিসেবে আমাদের সবাইকে নৈতিক হতে হবে।”
উল্লেখ্য ‘মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট’ একটি স্বেচ্ছাসেবী, অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। একটি নৈতিক সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের কে প্রতি দুই মাস অন্তর বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। ‘মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট’ এর অধীনে ৭০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়ে থাকে।

