ইবি সংবাদদাতা:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার ২৯৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে একর্মসূচি পালন করে তারা। এসময় জাস্টিস ফর সাজিদ আব্দুল্লাহ প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক শেখ সাজ্জাতুল্লাহর সভাপতিত্বে শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, তালাবায়ে আরাবিয়ার, তালামীযে ইসলামিয়া ও বাগছাসের নেতৃবৃন্দ, সাজিদের সহপাঠীসহ শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
মানববন্ধনে তারা বলেন, বর্তমান প্রশাসনের ন্যুনতম সদিচ্ছা নেই সাজিদ হত্যার বিচারটি করার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি স্টেকহোল্ডার এখন অনিরাপদ। যখন দেখছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাজিদ হত্যা করার পরেও আমরা বেঁচে থাকতে পারছি, তখন খুনিরা সাহস সঞ্চার করেছে যার ফলাফল রুনা ম্যাম হত্যাকাণ্ড। আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে, হয়তো সাজিদ হত্যাকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের একটি লিয়াজোঁ বা যোগসাজশ থাকতে পারে। কারণ তারা বড় বড় ইভেন্টে কখনোই সাজিদের নাম নেয় না। সাজিদের নামে হল করার কথা থাকলেও করেনি। প্রশাসনের প্ল্যান হচ্ছে ইবি থেকে সাজিদকে ভুলিয়ে দেওয়া। এছাড়া সাজিদের ফ্যামিলিকে যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল, সেই ক্ষতিপূরণ কেন সাজিদের পরিবার কে দেওয়া হলো না তা জানতে চাই। যদি আপনাদের পক্ষে এটা বাস্তবায়ন করা না যায়, তাহলে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করেন।’
শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, প্রশাসন শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার তো দূরের কথা, তারা বিচারের যে প্রাথমিক প্রক্রিয়া সেটাও শুরু করেনি। সেটা কবে থেকে শুরু করবে এবং কীভাবে শুরু করবে এটা আমাদেরকে জানান। আপনারা যদি না জানাতে পারেন তাহলে আপনারা সংশ্লিষ্ট যারা পারে তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করুন। যদি দায়িত্ব না নিতে পারেন তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। দায়িত্বে বসে থেকে শিক্ষার্থীদেরকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগানোর কোনো মানে আছে বলে আমাদের কাছে মনে হয় না। আপনার সন্তান যদি হত্যা হতো তাহলে আপনি কিন্তু বিচারের দাবিতে মাঠে নেমে যেতেন। এই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা যখনই বিচারের দাবিতে যায় তখনই আপনারা ছলচাতুরি করে অন্যদিকে আপনাদের প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে আসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যতগুলো কলঙ্কজনক অধ্যায় ঘটেছে একটারও আমরা স্পষ্ট সুরাহা পাইনি। ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আল মুকাদ্দাস এবং অলিউল্লাহ আমাদের মাঝ থেকে গুম হয়েছে, তাদের বিষয়ে আপনারা স্পষ্ট কোনো তথ্য আমাদেরকে দিতে পারেননি। আমরা জানতে চেয়েছি যে তারা আছে না মৃত্যুবরণ করেছে, আপনারা আমাদেরকে সেই তথ্যটাও দিতে পারেননি। আপনারা যদি শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যা এবং রুনামাম হত্যার বিচার না করতে পারেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারেন, তাহলে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। যারা পারে তাদেরকে আমরা দায়িত্বে আনার চেষ্টা করবো এবং আমরা তাদের মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো।
শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু দাউদ বলেন, শহীদ সাজিদকে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সেটা ২৯৭ দিন ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের প্রশাসন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। যদি জড়িত না থাকতো তাহলে অবশ্যই এর একটা প্রতিকার, এর একটা ব্যবস্থা তারা নিত। সাজিদ হত্যার বিচার না হলে আমি ব্যক্তিগত বা আমার দল প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কেউ নিরাপদ না। এই নিরাপদ না থাকার কারণে আমরা আমাদের জীবনের ঝুঁকির কারণেই আমরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করব।
তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের ম্যামকে নির্মমভাবে হত্যা করার পেছনে অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন থোক বরাদ্দের নামে যে কাজগুলো করা হয়, তারই একটা রেশ ধরে হত্যাকাণ্ড হয়েছে। সেই জিনিসটা আমরা বারবার নিষেধ করেছি এই ধরনের নিয়োগ, এই ধরনের কোনো কিছু যেন না করে। তারপরও এখন পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থায়ী কোনো নিয়োগের ব্যবস্থা না করে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও ধ্বংসের মুখে বারবার ঠেলে দিচ্ছে।

